ব্যবসায় আপনি কি কোনো ভুল করছেন?

আমরা অনেকেই ব্যবসা করছি, অনলাইন অথবা অফলাইনে। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি , প্রতিনিয়ত কত ভুল আমরা করে যাচ্ছি?

আমরা আমাদের ব্যবসার ছোট ছোট বিষয়গুলো নিয়ে খুব উদাশিন থাকি অথচ এই সকল ছোট বিষয় গুলো এক সময় গলার কাটার মত আমাদের সামনে এসে হাজির হয়।

আজকে আমি আপনাদের সামনে দেখিয়ে দিবো ছোট ছোট বিষয়গুলো কিভাবে বড় সমস্যার সৃষ্টি করে।

পন্যের ষ্টক

আমরা যখন ব্যবসায় অনেক লাভ করতে থাকি তখন ছোট ছোট পন্যের দিকে নজর দেই না। মনে করি লাভ তো হচ্ছেই। এইসব ছোট খাটো জিনিষ হারালে সমস্যা নাই। কিন্তু এটা আপাত দৃষ্টিতে আপনার কাছে ছোট মনে হলেও এক সময় এটা খুব বড় আকার ধারন করবে।

মনে করেন, আপনি প্রতিদিন গড়ে ১০০ টাকার পন্যের হিসাব পাচ্ছে না। তাহলে মাস শেষে আপনার পন্যের ক্ষতি দাড়ালো ৩,০০০ (তিন হাজার ) টাকা, যা কিন্তু মোটেও ছোট মুল্য না।

এখন আপনি যদি এটা বাৎশরিক হিসাবে যান, তাহলে সেটা হবে ৩৬,০০০ (ছত্ত্রিশ হাজার) টাকা, যা কিন্তু অনেক বড় একটা পরিমান। এই টাকা দিয়ে আপনি বর্তমান সময়ের একটা আধুনিক মোবাইল কিনে ফেলতে পারবেন।

আমি যদি সর্বসাকু্ল্যে সব কিছু বাদ ও দেই। তাও গড়ে যদি ৫০ টাকারও পন্য আপনি হারান তাহলেও বছরে আপনি ১৮, ০০০ (আঠারো হাজার) টাকার পন্য হারাবেন।

আপনি যদি অনেক দামি কিন্তু আকৃতিতে ছোট পন্য নিয়ে ব্যবসা করেন তাহলে তো কথাই নেই। একটি পন্য হারালেও আপনার অনেক ক্ষতি হবে এবং আপনি সেটা সম্পর্কে জানতেও পারবেন না।

তাই আপনাকে সব পন্যের সঠিক ষ্টক সম্পর্কে ধারনা অবশ্যই থাকা লাগবে।

ক্লাইন্ট / সাপ্লায়ারের হিসাব

আমি যদি আপনাকে প্রশ্ন করি, আপনি আপনার সকল কাষ্টোমার / ক্লাইন্ট থেকে কত টাকা পাবেন? আপনি কি উত্তর টা দিতে পারবেন?

এই উত্তর দেওয়ার জন্য আপনাকে যেতে হবে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে। এবং খুজে বের করতে হবে আপনার সেই ডায়েরি যেখানে আপনি সব কিছু লিখে রাখেন। তাও সবার হিসাব দিতে হলে আপনাকে অনেক সময় নিয়ে একটা একটা করে যোগ করে বের করতে হবে।

আপনি একবার ভাবুন তো, যদি কোনো দুর্ঘটনায় আপনার সেই ডায়েরি পুরে যায় অথবা হারিয়ে যায়? আপনি কি সেই হিসাব আর কখনো পাবেন? অবশ্যই না।

তাহলে আপনি নিজে একবার ভেবে দেখুন কত বড় একটা সমস্যা নিয়ে আপনি নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরছেন। এছাড়াও যখন আপনি কোনো পন্য বিক্রি বা ক্রয় করতে যাবেন , ততবার আপনার ডায়েরি বের করে তার সাথে লেনদেনের বর্তমান হিসাব দেখা লাগবে। এটা কি একটা বড় ধরনের ঝামেলা নয় কি?

এই যে কিছুদিন আগেই বঙ্গ বাজারে যে আগুন লাগলো, আপনি কি জানেন সেই সব ব্যবসায়িরা যত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে মাল পত্র হারিয়ে। তার থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে হিসাব হারিয়ে। অনেক লোক ই এসে বলছে , আমি আপনার থেকে অত টাকা পাই। কিন্তু বাস্তবে সে আসোলে কোনো টাকাই পায় না। কিন্তু যেহেতু আপনার কাগজ পত্র সব পুরে গেছে তাই আপনি তার কথার বিপরিতে কোনো উত্তর দিতে পারবেন না।

কর্মচারির হিসাব

আমাদের ব্যবসায় যদি কর্মচারি থাকে তাহলে তাদের বেতন নিয়েও আমরা অনেক ভুল করে থাকি। অনেক সময় দেখা যায় কর্মচারিরা অগ্রিম কিছু টাকা নিয়ে রাখে। এই সব হিসাব রাখাটাও অনেক কষ্টকর।

আবার দেখা যায় কর্মচারিরা মাঝে মাঝে কর্মস্থলে না এসে ছুটি কাটায়। সেই সকল ছুটি হয়তো মাস শেষে আমরা ভুলেই যাই। অথচ সেই সব ছুটির জন্য আমাকে কিন্তু তাকে টাকা দিতে হচ্ছে।

মনে করেন আপনার ২ জন কর্মচারি এবং এদের দৈনিক বেতন ৫০০ টাকা। যদি প্রতিজন অবৈতনিক ১ দিন করেও ছুটি কাটায় তাহলে আপনার মাস শেষে ১০০০ টাকার ক্ষতি হল। যেটা আপনি মনে না রাখার কারনে তাদেরকে দিয়ে দিবেন।

বাৎসরিক হিসাব করলে তা দারাবে ১২,০০০ (বারো হাজার) টাকা। এছাড়াও দেড়িতে আসার ক্ষেত্রেও কর্মচারিদের যে বেতন কর্তন হয় সেই হিসাব ও হয়তো আমরা ঠিক মত রাখতে পারি না। যার কারনে অনেক অবাঞ্চিত খরচের সম্মুখিন হই আমরা।

অযাচিত খরচ

মনে করেন আপনার ব্যবসার মুলধন ১০০ টাকা। আপনি যে পন্য বিক্রি করেন তাতে আপনার লাভ ১ টাকা করে। আপনি একদিন ১১ টাকার একটি পন্য বিক্রি করলেন এবং লাভ হলো ১ টাকা।

সেই দিন, আপনি খুশিতে নিজের খরচের জন্য ব্যবসা থেকে ১০ টাকা খরচ করে ঠান্ডা পানিও খেয়ে ফেললেন। এখানে আপনি কিন্তু আপনার মুলধন থেকে ১০ টাকা কমিয়ে ফেললেন। যেটা পরবর্তিতে আপনি পন্য ক্রয়ের সময় উপলব্ধি করবেন।

এভাবে আমরা প্রতিদিন ব্যবসা থেকে টাকা নিয়ে পার্সোনাল খরচ করে ফেলছি। অথচ মাস শেষে লাভ লসের হিসাবের ক্ষেত্রে আমরা এই হিসাব গুলোকে আমলেই নেই না।

তাই আমাদের সব সময় পর্যাপ্ত ধারনা রাখা উচিৎ কি পরিমান খরচ করছি এবং কি পরিমান খরচ করার জন্য বরাদ্ধ রাখা দরকার।

সময়ের অপব্যবহার

আমাদের বেশির ভাগ ব্যবসায়িরা দেখা যায় অনেক গুলো খাতা ব্যবহার করে অনেক ধরনের হিসাব রাখার জন্য। যেমন সাপ্লায়ারের জন্য একটা খাতা, ক্লাইন্টের জন্য একটা খাতা, এইভাবে হরেক রকম কাজের জন্য হরেক রকম খাতা।

যখন সাপ্লায়ারের থেকে পন্য ক্রয় করে, তখন সাপ্লায়ারের খাতা বের করে সেখান থেকে নির্দিষ্ট সাপ্লায়ার খুজে তার হিসাব রাখা হয়। আবার ক্লাইন্ট প্রোডাক্ট কিনলে তার খাতায় ও একই ভাবে হিসাব রাখা হয়। এটা অনেকটা সময় সাপেক্ষ।

আর দিন শেষে যখন হিসাব ক্লোজিং করা হয় তখন সব খাতা বের করে সর্বশেষ হিসাব মিলাতে হয়। এই বিষয়গুলো ব্যবসার গতি অনেক মন্থর করে দেয়।

সর্বশেষ

উপরে উল্লেখেত খারন ছারাও আরো অনেক ছোট বড় ভুল আমরা প্রতিনিয়তই করছি। এই সকল ভুল আপাত দৃষ্টিতে চোখে ধরা না পরলেও ব্যবসার ক্ষতি করে যাচ্ছে। আমাদের সকলের উচিত এই সকল ভুল থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং আরো সতর্ক থাকা।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *